দক্ষিণ পূর্ব

সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চাই: চসিক প্রশাসক

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ৮ নভেম্বর ২০২৬ ১২:৩২ দুপুর
পঠিত : ৩৭
সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চাই: চসিক প্রশাসক

ছবি

Degchibarictg

সকল জাতিসত্তা ও ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘রেইনবো নেশন’ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম শহর রোল মডেল হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।

শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে নগরীর গোলপাহাড় মহাশ্মশান কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির উদ্যোগে শ্যামা পূজা উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি সব সম্প্রদায়ের মানুষকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে শারদীয় দুর্গাপূজায় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে এসেছিলেন। তিনি সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছেন এবং সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

চসিক প্রশাসক বলেন, একইভাবে চট্টগ্রাম শহরকে গ্রিন, ক্লিন ও সেইফ সিটিতে পরিণত করতে চান তিনি। এমন একটি নগর গড়ে তুলতে চান, যেখানে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারবেন এবং নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারবেন।

নগরের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন কার্যক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অভয়মিত্র মহাশ্মশানে উন্নয়নকাজ চলছে। আগামী জানুয়ারিতে সেখানে দুই কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বৈদ্যুতিক চুল্লি স্থাপন করা হবে। এ ছাড়া বাকলিয়া, কাট্টলি ও হালিশহরে নতুন মহাশ্মশান নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ডিসি হিলের সামনে বৌদ্ধ বিহারের সামনে পদ্মফুল স্থাপন করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে দুর্গাপূজা ও জন্মাষ্টমীও উদযাপন করা হয়। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।

গোলপাহাড় মহাশ্মশান কালী মন্দিরের ভূমিসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে ডা. শাহাদাত বলেন, মন্দিরের ভূমি নিয়ে যে সমস্যা রয়েছে, তা তিনি দেখবেন। খাসজমিগুলো যেন মন্দিরের নামে স্থায়ীভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়, সে উদ্যোগ নেওয়া হবে। মন্দিরের উন্নয়নে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার বিভাজনের রাজনীতি করে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে বিএনপি থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করেছে। কিন্তু বিএনপি বিভাজনের রাজনীতি করে না। সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যাওয়ার রাজনীতি করে দলটি।

তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ নিরঙ্কুশভাবে বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছেন। বিএনপি তাদের পাশে থাকতে চায়। তাদের সুখে-দুঃখে এবং ধর্মীয় উৎসবসহ সব আয়োজনে সহযোগিতা করতে চায়।

গোলপাহাড় মহাশ্মশান ও কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি লায়ন আর কে দাশ রুপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আশীর্বাদক ছিলেন সীতাকুণ্ড শংকর মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ তপনানন্দ গিরি মহারাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থ।

স্বাগত বক্তব্য দেন গোলপাহাড় মহাশ্মশান ও কালী মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রুভেল দে। ধর্মীয় বক্তব্য দেন অধ্যাপক স্বদেশ চক্রবর্তী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শিমুল মুহুরি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি কাজল দেব, সাধন সিংহ, সৌমিত্র চক্রবর্তী, পরিমল সিকদার, নিকেল দে, বাবুল চৌধুরী, বিশ্বনাথ দাশ বিশু, লেলিন দে, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুজন দাশ, মুনমুন দত্ত মুন্না, সিদ্ধার্থ শংকর সিধু, চন্দন মহাজন, সঞ্জয় প্রসাদ মল্লিক, শৈবাল ভৌমিক, অর্জুন কুমার নাথ, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন ঘোষ বাদশা, অর্থ সম্পাদক দেবাশীষ রায়, সহসাধারণ সম্পাদক রতন দে, আশীষ আচার্য্য ও তুহিন রায়সহ অন্যরা।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে গুণী শিল্পীদের পরিবেশনায় সংগীতাঞ্জলি অনুষ্ঠিত হয়।

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।