দক্ষিণ পূর্ব

চট্টগ্রাম বন্দরে পিসিটিতে যুক্ত হলো ৪ অত্যাধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেন

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬
পঠিত :
চট্টগ্রাম বন্দরে পিসিটিতে যুক্ত হলো ৪ অত্যাধুনিক গ্যান্ট্রি ক্রেন

ছবি বন্দর

চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) পরিচালনায় নতুন গতি আনতে চারটি অত্যাধুনিক কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন (কিউজিসি) চট্টগ্রামে পৌঁছেছে। 

শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্রেনগুলো বহনকারী বিশেষায়িত ডেক জাহাজ ‘এমভি ল্যান হাই হং ইউন’ পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল জেটিতে নোঙর করে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, পিসিটির অপারেটর প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল ইন্টারন্যাশনাল (আরএসজিটি) প্রায় ৩ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে চীনের সানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রি থেকে অত্যাধুনিক এসব ক্রেন সংগ্রহ করেছে।

আরএসজিটি ও বন্দর সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চারটি কিউজিসি সংগ্রহের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর এক বছরের বেশি সময় পরে ক্রেনগুলো বাংলাদেশে পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন চারটি ক্রেন চালু হলে পিসিটির বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বর্তমান প্রায় আড়াই লাখ টিইইউএস থেকে বেড়ে ৬ লাখ টিইইউএসে উন্নীত হবে। এতে জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে, বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং আমদানি-রপ্তানি খাতে লজিস্টিক ব্যয়ও হ্রাস পাবে।

এর আগে টার্মিনালটির জন্য ১৪টি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেন সংগ্রহে প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে আরএসজিটি। পাশাপাশি চলতি বছরের মে মাসে প্রায় ৩০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে একটি আধুনিক কনটেইনার স্ক্যানার স্থাপন করা হয়, যা আমদানি কনটেইনার পরীক্ষা কার্যক্রমকে আরও দ্রুত ও কার্যকর করেছে।

বন্দর সূত্র জানায়, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টিইইউএস। তবে ২০২৫ সালে টার্মিনালটিতে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬৪ টিইইউএস কনটেইনার এবং ৭৮টি জাহাজ হ্যান্ডেল করা হয়েছে। এর মধ্যে রপ্তানি কনটেইনার ছিল ৯৩ হাজার ৩৪০ টিইইউএস এবং আমদানি কনটেইনার ছিল ৬১ হাজার ২২৪ টিইইউএস।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. নাসির উদ্দিন বলেন, জাহাজটি নিরাপদে জেটিতে ভেড়ানো হয়েছে। এ কাজে বন্দরের দুইজন পাইলট ও তিনটি টাগবোট দায়িত্ব পালন করেছে। ক্রেন খালাস কার্যক্রম চলাকালে নিরাপত্তার স্বার্থে কর্ণফুলী নদীর পিসিটি-সংলগ্ন এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজ, কোস্টার, ট্যাংকার এবং মাছ ধরার ট্রলারের চলাচলে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরএসজিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফ সারোয়ার বলেন, ইজারা চুক্তির প্রথম দুই বছর অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহে ব্যয় করা হয়েছে, যাতে আগামী দুই দশক টার্মিনালটি সর্বোচ্চ সক্ষমতায় পরিচালনা করা যায়।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, নতুন শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেনগুলো যুক্ত হওয়ার ফলে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।

 

উল্লেখ্য, ২২ বছরের চুক্তির আওতায় ২০২৪ সালের এপ্রিলে পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল আরএসজিটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই বছরের জুন মাস থেকে প্রতিষ্ঠানটি আনুষ্ঠানিকভাবে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করে।

 

দক্ষিণপূর্ব/আর এইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।