নগরীর বেসরকারি ন্যাশনাল হাসপাতাল, ম্যাক্স হাসপাতাল, মেট্রো ডায়াগনস্টিক সেন্টার, স্বপ্ন সুপার শপকে শেষবারের মতো সতর্ক করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। একইসাথে হিজড়া খালের গাইডওয়াল নির্মাণ কাজেরও পরিদর্শন করেন তিনি। পাশাপাশি প্রকল্পের কাজের কারণে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত ভবন মালিকদের সিডিএ'র পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করিয়ে দেওয়ারও আশ্বাস দেন।
শুক্রবার ছুটির দিনে সকাল ৮টা থেকে তিনি নগরের প্রতিষ্ঠানগুলো পরিদর্শনে নামেন। এসময় তিনি চারটি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত পার্কিং নিশ্চিতের তাগিদ দিয়ে বলেন, পার্কিং নিশ্চিত করে যানজট নিরসন না করলে আইনী ব্যবস্থার পথে হাঁটবে সিডিএ। পরিবর্শনের সময় সিডিএ চেয়ারম্যানের সঙ্গে কোন দাপ্তরিক টীম ছিলোনা।
সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, যানজট নিরসনের লক্ষ্যে নগরের বেসরকারি হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর পার্কিং নিশ্চিতের অংশ হিসেবে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছি। এর মধ্যে ন্যাশনাল হাসপাতালের অগ্রগতি মোটামুটি সন্তোষজনক। তারা ইতিমধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য পার্কিং করেছেন। ভেতরের পার্কিংও রোগীদের গাড়ি রাখায় ব্যবহার করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের গাড়ি হাসপাতালের পার্কিংয়ে রাখতে নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়াও ম্যাক্স হাসপাতালও মোটামুটি পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। তবে তাদের পার্কিং স্থানটি থেকে বেশ উঁচুতে। আমরা নির্দেশনা দিয়েছি সেটি ভেঙে ফেলে সড়কের সাথে মিলিয়ে যেন পার্কিং করা হয়৷ এতে রাস্তার আয়তন যেমন বাড়বে, তেমনি এই এলাকায় যানজট কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, গোলপাহাড় মোড়ের মেট্রো ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও স্বপ্ন সুপার শপ পরিদর্শন করেছি। তাদের কোন পার্কিং নেই। তারা এতোদিন সড়কের উপরেই পার্কিং করে আসছিল। এতে গোলপাহাড় মোড় থেকে কাজির দেউড়ি ও চট্টেশ্বরীর দিকে যাওয়ার পথে সব সময় যানজট লেগে থাকে। আমরা বলেছি, দ্রুত তারা যেন পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেন। অন্যথায় আমরা আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য থাকব। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার ট্রাফিক কর্মকর্তাকে ডেকেও যানজটের সমস্যার সমাধানের গুরুত্বারোপ করে আলোচনা করেন।
সিডিএ সূত্র জানায়, পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন নগরের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম, পার্কিং ব্যবস্থা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অগ্রগতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করতে এই ঝটিকা অভিযানে নামেন। পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যানজট নিরসনে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য পৃথক ব্যবস্থা, পার্কিং সুবিধা বৃদ্ধি এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীদের দক্ষতা ও মানোন্নয়নের উদ্যোগের কথা জানানো হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তাকর্মীদের দেশীয় প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বিদেশে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
সিডিএ চেয়ারম্যান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষগুলোকে পার্কিং ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা, হাসপাতালের প্রবেশ ও বহির্গমন পথে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত নিরাপত্তাকর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
পরে তিনি প্রবর্তক মোড়সংলগ্ন হিজড়া খালে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। বর্ষা মৌসুম শেষ পর্যায়ে থাকায় খালের অবশিষ্ট কার্যক্রম শুরু করার লক্ষ্যে প্রকল্প এলাকার বিভিন্ন কারিগরি দিক সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। এ সময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অবশিষ্ট কাজের ধরণ, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন সিডিএ চেয়ারম্যান।
প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, যতদিন পর্যন্ত একটি টেকসই ব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো ফিরবে না ততোদিন আমাদের এই অভিযান চলবে। আমরা কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছি না, আমাদের অভিযান নিয়ম না মানা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে। নগরকে সুশৃংখল, শান্তিপূর্ণ ও যানজটমুক্ত রাখতে প্রত্যেক ভবনকে আইন মেনে চলতে হবে এবং পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কোন ভবন আইন না মেনে নকশাবিহীন গড়ে উঠতে পারবে না। পাহাড় কেটে ভবন করা চলবে না, পুকুর ভরাট করে ভবন তোলা চলবেনা। আইনের ব্যতয় যেখানে ঘটবে সিডিএ সেখানে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।