দক্ষিণ পূর্ব

জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই চট্টগ্রামের বাজারে নিত্যপণ্যের ‘অগ্নিমূল্য’

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:৫৯ দুপুর
সর্বশেষ আপডেট : ১ ঘন্টা আগে
পঠিত : ৩৭
জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই চট্টগ্রামের বাজারে নিত্যপণ্যের ‘অগ্নিমূল্য’

চট্টগ্রাম থেকে

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন 

চট্টগ্রামের কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দামে স্বস্তি নেই। শাক-সবজি থেকে মাছ, মুরগি ও ডিম—বেশিরভাগ পণ্যের দামই বাড়তির দিকে। এর মধ্যে এক সপ্তাহের ব্যবধানে গাজরের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর পরিবহন ব্যয় বাড়ার প্রভাবও বাজারে পড়তে শুরু করেছে। এতে সীমিত ও মধ্যম আয়ের মানুষের বাজারের হিসাব ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নগরের রিয়াজউদ্দিন বাজার, বহদ্দারহাট, চকবাজার ও কাজীর দেউড়িসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ সবজিই ৭০ থেকে ১০০ টাকার ওপরে বিক্রি হচ্ছে। কোনো কোনো সবজির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে ৫ থেকে ১০ টাকা বাড়লেও কয়েকটির দাম বেড়েছে আরও বেশি।

সবজির বাজারে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় গাজর। ১৮ সেপ্টেম্বর প্রতি কেজি গাজর প্রায় ৮০ টাকা দরে বিক্রি হলেও শুক্রবার তা বেড়ে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহে কেজিতে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

এ ছাড়া বরবটি ৮০ থেকে ১২০ টাকা, শিম ১৪০ থেকে ২০০, ঝিঙে ৬০ থেকে ৮০, করলা ৮০ থেকে ১২০, টমেটো ১০০ থেকে ১৬০, বেগুন ৮০ থেকে ১১০, শসা ৮০ থেকে ১০০ এবং ঢেঁড়স ও পটল ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চিচিঙ্গা ৭০ থেকে ১০০, ধুন্দল ৮০ থেকে ১০০, কাঁকরোল ৮০ থেকে ১২০, কচুর লতি ৬০ থেকে ৮০, কচুরমুখী ৬০ থেকে ১০০, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০, মিষ্টি কুমড়া ৫০ থেকে ৬০, লাউ ৮০ থেকে ১২০, চালকুমড়া ৭০ থেকে ৮০ এবং কাঁচা মরিচ ১৬০ থেকে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ধনেপাতার দামও উঠেছে প্রায় ২০০ টাকা কেজিতে।

আগাম শীতকালীন সবজির দাম আরও চড়া। বাজারে সরবরাহ কম থাকায় ফুলকপি কোথাও কোথাও কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা এবং আগাম শিম প্রায় ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

সবজির পাশাপাশি মাছের দামও বেড়েছে। শুক্রবার রুই-কাতলা ৩৮০ থেকে ৪৩০ টাকা, তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৮০, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২৫০, পাবদা ৪০০ থেকে ৪৫০, কই ২৮০ থেকে ৩০০, লইট্টা ২০০ থেকে ২৫০ এবং কোরাল ৬৩০ থেকে ৭০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

রূপচাঁদা আকার ও মানভেদে ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা এবং চিংড়ি ৭০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশের দাম আকারভেদে ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত।

মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ, আড়তদর ও মৌসুমি প্রাপ্যতার পাশাপাশি পরিবহন ব্যয়ও মাছের দামের ওপর প্রভাব ফেলছে।

এক সপ্তাহ আগে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও এখন বাজারভেদে ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৫০, কক ২৬০ থেকে ৩০০, লেয়ার ২৮০ থেকে ৩২০ এবং দেশি মুরগি ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দামও বেড়েছে। ফার্মের লাল ডিম প্রতি ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা এবং সাদা ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ছাগলের মাংসও সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে প্রায় ৫০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ২৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর সরকার ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোল ও অকটেনের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বাড়ায়। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়। বর্তমানে ডিজেল ১৩৫, কেরোসিন ১৫৫, পেট্রোল ১৬০ এবং অকটেন ১৬৫ টাকা লিটার।

ব্যবসায়ীদের দাবি, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাকে করে চট্টগ্রামে পণ্য আনার খরচ বেড়েছে। ফলে উৎপাদনস্থল থেকে আড়ত, পাইকারি বাজার হয়ে খুচরা পর্যায়ে বাড়তি পরিবহন ব্যয়ের প্রভাব পড়ছে।

জুলাইয়ের ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যায় কৃষি ও মৎস্য খাতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। কৃষি বিভাগের হিসাবে, ৬ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে জেলার ৫ হাজার ৯০৭ হেক্টর সবজির জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রায় ৪৩ হাজার ৫০ টন সবজি নষ্ট এবং আর্থিক ক্ষতি হয় প্রায় ৮৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।

মৎস্য অধিদপ্তরের জরিপ অনুযায়ী, বন্যায় জেলার ১৫টি উপজেলায় ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর, দিঘি ও জলাশয় এবং ৩২০টি মাছের ঘের প্লাবিত হয়। এতে মৎস্য খাতে ক্ষতি হয়েছে ৯১ কোটি টাকার বেশি।

বন্যার পর নতুন করে উৎপাদন ও বিভিন্ন এলাকা থেকে সরবরাহ বাড়ায় আগস্টের শেষ দিকে বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। তবে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে এসে সেই স্বস্তি আবার অনেকটাই উধাও।

কাজীর দেউড়ি বাজারের নিয়মিত ক্রেতা বেসরকারি চাকরিজীবী এনামুল হক নাবিদ বলেন, ‘বন্যার পর থেকেই সবজি ও মাছ-মাংসের দাম বাড়ছে। একেক সময় একেক অজুহাতে দাম বাড়ানো হচ্ছে। সর্বশেষ জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কথা বলে প্রায় সব ধরনের নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে।’

চকবাজারের ক্রেতা মনির ফয়সাল বলেন, ‘আগে যে টাকা নিয়ে এক সপ্তাহের বাজার করা যেত, এখন সেই টাকা দিয়ে কয়েক দিনের বাজার করাও কঠিন।’

আর / দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।