চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হককে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ডবলমুরিং থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পুলিশ জানায়, গত ১৩ আগস্ট বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে ডিএমপির বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করে। পরদিন ১৪ আগস্ট ডবলমুরিং মডেল থানার পুলিশ তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসে। পরে তাকে চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
গ্রেপ্তার সৈয়দ মাহমুদুল হকের বয়স ৭০ বছর। তিনি নগরীর ডবলমুরিং থানার শেখ মুজিব ভান্ডার মার্কেট এলাকার সৈয়দ আবু সিদ্দিকের ছেলে। তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনূর আলম।
পুলিশের আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ডবলমুরিং থানার মনছুরাবাদ পুলিশ লাইনের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিজয় মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় মোহাম্মদ আলম (৪৭) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ঘটনায় ডবলমুরিং মডেল থানায় ১৪৩, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯, ৩০২, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়।
মামলার এজাহারে সৈয়দ মাহমুদুল হককে ১৪৯ নম্বর আসামি করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ঘটনার সময় আসামিরা লাঠিসোঁটা, লোহার রড, ধারালো অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। একপর্যায়ে গুলিতে মোহাম্মদ আলম মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে পড়ে যান। পরে তাকে চট্টগ্রাম মা-শিশু ও জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
আদালতে দেওয়া পুলিশের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মামলার প্রাথমিক তদন্তে সৈয়দ মাহমুদুল হকের ঘটনায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার বিষয়ে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। তাকে বিদেশে যাওয়ার সময় গ্রেপ্তারের জন্য বিশেষ পুলিশ সুপার, ইমিগ্রেশন (প্রশাসন), এসবি, ঢাকার কাছে চিঠিও পাঠানো হয়েছিল।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ আগস্ট শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটক করে বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করে। পরে ডবলমুরিং থানা-পুলিশ তাকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসে।
পুলিশের সিডিএমএস পর্যালোচনায় সৈয়দ মাহমুদুল হকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানায় ২০২৪ সালের ২১ আগস্ট দায়ের করা আরেকটি হত্যা মামলার তথ্যও পাওয়া গেছে বলে আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডবলমুরিং থানার ওসি মো. শাহীনূর আলম জানান, মামলাটির তদন্ত চলছে। একই ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।