দক্ষিণ পূর্ব

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান

‘যে সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, সেই সাপই একদিন ছোবল দেবে’

saiful
saiful
প্রকাশ : ৩ নভেম্বর ২০২৬ ১০:৩৫ দুপুর
পঠিত : ২৩
‘যে সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, সেই সাপই একদিন ছোবল দেবে’
Degchibarictg

বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বিশৃঙ্খল বাংলাদেশে পাহাড়সম ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও অদক্ষতা আড়াল করতে এখন বিরোধী দলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে। কিন্তু মনে রাখবেন, যে সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, সেই সাপই একদিন ছোবল দেবে। ছোবল দিয়ে সাপ পালিয়ে যাবে, আপনাদের মরদেহ পড়ে থাকবে।’

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গিয়ে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদের ভেতরেও তাঁরা বলেছেন, যারা বসন্তকালে কুহু কুহু করতে এসেছেন, বসন্ত পার হওয়ার পর তাঁদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষাকালে তাঁদের পাশে পাওয়া যাবে না। কঠিন সময়ে তাঁরা সবাইকে ফেলে পালিয়ে যাবেন।

তিনি বলেন, বিরোধী দলের চরিত্রহনন না করে নিজেদের ব্যর্থতা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতে হবে। মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে পারলে জনগণ সমর্থন দেবে। অন্যথায় অতীতের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় প্রতিবাদী কণ্ঠ দমনের চেষ্টা করলে তা আর সফল হবে না। বাংলাদেশের মানুষ আর ফ্যাসিবাদ মেনে নেবে না।

জামায়াত আমির আরও বলেন, সংঘবদ্ধ জনতা রুখে দাঁড়িয়েছে, ভবিষ্যতেও দাঁড়াবে। দিন দিন এই আন্দোলনের গতি বাড়বে এবং একপর্যায়ে এর পূর্ণ সমাধান হবে।

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদের ফলে পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হয়েছে। সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের ভোগান্তি কমাতে তিনি যে দাবি তুলেছিলেন, তার সুফল এখন মানুষ পাচ্ছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আখতারুজ্জামান কারও গায়ে হাত দেননি। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া এবং সরকারি কর্মকর্তার গায়ে হাত তোলার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে তাঁদের দাবি।

তিনি আরও বলেন, ওই ঘটনার পর দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। বিমানবন্দরে ট্রলির সংকট নিয়েও আখতারুজ্জামান প্রতিবাদ করেছিলেন। এর পর দুই দফায় ৩০০টি নতুন ট্রলি যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি লাগেজ কাটা ও চুরির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের শরীরে বডি ক্যামেরা সংযুক্ত করা হয়েছে। এখন ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে যাত্রীরা লাগেজ পাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

মেজর আখতারুজ্জামানের মুক্তির বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও লজ্জাজনক মামলা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তাঁকে হাইকোর্ট পর্যন্ত যেতে হয়েছে। পরে চেম্বার আদালতেও বিষয়টি গড়িয়েছে। পুরো ঘটনাকে তিনি লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, জেল-জুলুম ও প্রতিবাদের অভিজ্ঞতা তাঁদের দীর্ঘদিনের। তবে মেজর আখতারুজ্জামান অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর প্রতিবাদের সুফল পেয়েছেন। তাঁকে খাঁচায় বন্দি রাখার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

সবশেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যত দিন পর্যন্ত জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরে না আসবে, তত দিন তাঁদের লড়াই চলবে। তাঁদের সহকর্মী প্রমাণ করেছেন, তাঁরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পান না।

এসআই/

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।