দক্ষিণ পূর্ব

পাহাড়ের নীল জলরাশিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাহসের লড়াই সাঁতার প্রতিযোগিতা

দক্ষিণপূর্ব
দক্ষিণপূর্ব
প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০১:০৮ দুপুর
পঠিত : ৭০
পাহাড়ের নীল জলরাশিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সাহসের লড়াই সাঁতার প্রতিযোগিতা
Degchibarictg

আলমগীর মানিক, রাঙামাটি

চারপাশে সুউচ্চ পাহাড়, মাঝখানে বিস্তীর্ণ নীল জলরাশি। সেই জলরাশির বুক চিরে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার চ্যালেঞ্জ। কারও লক্ষ্য বিজয়, কারও কাছে নিজের সক্ষমতা যাচাই, আবার কারও উদ্দেশ্য সাঁতারের ভীতি জয় করা। এমনই এক ব্যতিক্রমী আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রাণবন্ত হয়ে উঠল পাহাড়ের কাপ্তাই হ্রদ।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাঙামাটির সুবলং চ্যানেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সাঁতার প্রতিযোগিতা ‘সুবলং চ্যানেল সাঁতার প্রতিযোগিতা সিজন-২’। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় দুই নারীসহ সারাদেশের ৩২ জন সাঁতারু অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন সফলভাবে নির্ধারিত দূরত্ব অতিক্রম করেন।

সকালে রাঙামাটি শহরের শহীদ মিনার ঘাট থেকে প্রতিযোগীদের নিয়ে ইঞ্জিনচালিত বোট রওনা হয় সুবলং বাজারের উদ্দেশে। সেখানে প্রস্তুতি ও গা গরম শেষে সাঁতারুরা একযোগে ঝাঁপিয়ে পড়েন হ্রদের পানিতে। সুবলং বাজার থেকে শহীদ মিনার ঘাট পর্যন্ত শুরু হয় তাঁদের দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার লড়াই।

পথজুড়ে ছিল পাহাড়ের অপার সৌন্দর্য আর কাপ্তাই হ্রদের বিস্তীর্ণ জলরাশি। তবে সৌন্দর্যের পাশাপাশি ছিল শারীরিক সক্ষমতা, সহনশীলতা ও মানসিক দৃঢ়তার কঠিন পরীক্ষা। দীর্ঘ সময় পানিতে থেকে ক্লান্তি জয় করে একে একে গন্তব্যে পৌঁছান প্রতিযোগীরা।

আয়োজকদের মতে, এ প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য শুধু বিজয়ী নির্বাচন নয়; বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান সাঁতারুদের খুঁজে বের করা, নতুন প্রজন্মকে সাঁতারে আগ্রহী করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পানিতে ডুবে যাওয়ার ভয় ও সাঁতার না জানার প্রবণতা দূর করতে সচেতনতা তৈরি করা।

অংশগ্রহণকারী সাঁতারুরা জানান, কাপ্তাই হ্রদের মতো প্রাকৃতিক পরিবেশে দীর্ঘ দূরত্বের সাঁতার তাঁদের জন্য ছিল অন্য রকম অভিজ্ঞতা। এমন আয়োজন নিয়মিত হলে সাঁতারের প্রতি তরুণদের আগ্রহ বাড়বে এবং নতুন প্রতিভা উঠে আসার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রতিযোগিতা শেষে দুপুরে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। প্রথম স্থান অধিকার করেন রাব্বি, দ্বিতীয় হন মেহেদী এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন নয়ন। এসময় অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, রাঙামাটি সদর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল একরামুল রাহাত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রুহুল আমিন, রাঙামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জসিম উদ্দিনসহ প্রশাসন ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।  

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে সাঁতার নিয়ে ভীতি দূর করা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান সাঁতারুদের খুঁজে বের করতেই জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ৪০ জন সাঁতারু নিবন্ধন করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৩২ জন পানিতে নামেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন সফলভাবে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন।

কাপ্তাই হ্রদের বুকে এই আয়োজন যেন শুধু একটি ক্রীড়া প্রতিযোগিতা নয়, বরং পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ঘিরে নতুন ক্রীড়া সম্ভাবনারও বার্তা দিচ্ছে।

আরএইচ

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।