১৭তম আন্ডারগ্র্যাজুয়েট গণিত অলিম্পিয়াডের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পর্বে প্রথম ও অষ্টম স্থান অর্জন করে সাফল্য পেয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) দুই শিক্ষার্থী।
বিজয়ীরা হলেন, চুয়েটের বস্তু ও ধাতব কৌশল (এমএমই) বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াজ কুরুনি জিহাদ এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান। তাঁদের মধ্যে ওয়াজ কুরুনি জিহাদ প্রথম এবং ইসরাত জাহান অষ্টম স্থান অর্জন করেন।
বাংলাদেশ গণিত সমিতি ও এ এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতা শুক্রবার (৬ নভেম্বর) চট্টগ্রামসহ দেশের আটটি অঞ্চলে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত আঞ্চলিক পর্বে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্য থেকে ১০ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
বিজয়ীদের মধ্যে চুয়েটের দুই শিক্ষার্থী ছাড়াও নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী রয়েছেন।
প্রথম স্থান অর্জনকারী ওয়াজ কুরুনি জিহাদ বলেন, ‘গণিত নিয়ে কাজ করার ইচ্ছা আগে থেকেই ছিল। সেই ইচ্ছাই আজ আমাকে এতদূর নিয়ে এসেছে। এ অবস্থানে পৌঁছানোর পেছনে সব কৃতিত্ব আমার শিক্ষক ও বন্ধুদের। পরবর্তী ধাপের জন্য নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব। ফলাফলের চেয়েও নতুন কিছু শিখতে পারাটাই আমার মূল লক্ষ্য।’
অষ্টম স্থান অর্জনকারী ইসরাত জাহান বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এমন একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম। তাই অভিজ্ঞতাটাও ছিল একদম নতুন। অষ্টম স্থান অর্জন করতে পারব, তা সত্যি বলতে ভাবিনি। তবে এ ফলাফল আমাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে এবং ভবিষ্যতে ভালো করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।’
চুয়েটের এ সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন চুয়েট ম্যাথ ক্লাবের মডারেটর ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার দেব। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলের ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিযোগীদের মধ্যে চুয়েটের দুজন শিক্ষার্থীর জাতীয় পর্যায়ে যাওয়ার সাফল্য অর্জন সত্যিই গর্বের। চুয়েট ম্যাথ ক্লাবের পক্ষ থেকে তাদের অভিনন্দন জানাই। পরবর্তী ধাপের প্রস্তুতির জন্য বিজয়ী দুজনকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করব, যাতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তাদের এ সাফল্য অব্যাহত থাকে।’
উল্লেখ্য, আঞ্চলিক পর্যায়ে বিজয়ীদের নিয়ে আগামী ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। এ প্রতিযোগিতায় প্রথম পাঁচজন বিজয়ী হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
আরএইচ
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।