দক্ষিণ পূর্ব

দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কর্মসংস্থান ও সামাজিক সহায়তা বাড়াতে হবে- চসিক মেয়র

মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:২২ দুপুর
পঠিত : ২৯
দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কর্মসংস্থান ও সামাজিক সহায়তা বাড়াতে হবে- চসিক মেয়র

ছবি

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নগরীর দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে শুধু আর্থিক সহায়তা প্রদান যথেষ্ট নয়, তাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে আয়মুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা গেলে তারা নিজেরাই পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হবে।

রোববার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সম্মেলন কক্ষে চীনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা (CIDCA)-এর অর্থায়নে এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর কারিগরি সহায়তায় ‘বাংলাদেশের নগর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকা সহায়তা’ প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে সেলাই মেশিন, কম্পিউটার ও ফুড কার্ট বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে ৪৮টি সেলাই মেশিন, ৪১টি কম্পিউটার এবং ৬৮টি ফুড কার্ট বিতরণ করেন মেয়র। 

মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সংখ্যা কম নয়। তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনও নগরীর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজকের এই উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর হাতে কর্মসংস্থানের উপকরণ তুলে দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের আওতায় আজ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মাঝে ৪৮টি সেলাই মেশিন, ৪১টি কম্পিউটার এবং ৬৮টি ফুড কার্ট বিতরণ করা হয়েছে। এসব উপকরণ তাদের নিজস্ব কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি পরিবারের আয় বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। বিশেষ করে সেলাই মেশিন ও কম্পিউটার তরুণ-তরুণীদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয় করার সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং ফুড কার্টের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, প্রকল্পটি শুধু কর্মসংস্থান সৃষ্টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; দরিদ্র ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রকল্পের আওতায় ৮০৪ জন দরিদ্র ও হতদরিদ্র গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মাকে পুষ্টি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৯৩ জন দরিদ্র কিশোরীকে হাইজিন কিট প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারী ও কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

মেয়র বলেন, নগর উন্নয়নকে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, শিক্ষা ও নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করাও নগর উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নগরীর দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূল স্রোতে নিয়ে আসতে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়নের জন্য চীনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা (CIDCA) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (UNDP)-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও নগরীর দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং অনলাইনে ইউএনডিপির আন্তর্জাতিক প্রকল্প ব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।

আর/ দক্ষিণপূর্ব 

মন্তব্য (০)

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না।
সর্বোচ্চ ১০০০ অক্ষর।

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

নিউজলেটার

সর্বশেষ খবর সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে সাবস্ক্রাইব করুন।