ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু নাজিরহাট পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সুয়াবিল এলাকার বাদশা আলম চৌধুরী বাড়ির বাসিন্দা আকতার আলী চৌধুরী। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, আকতার আলী চৌধুরী ১৯৯০ সালে মারা যান।
সম্প্রতি রাবিয়া বেগম নামের এক নারী নিজেকে আকতার আলী চৌধুরীর স্ত্রী এবং তাঁর মেয়ে রেজিয়া সুলতানা নিজেকে আকতার আলী চৌধুরীর মেয়ে দাবি করে নাজিরহাট পৌরসভায় অভিযোগ দেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায়ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
রেজিয়া সুলতানার দাবি, তাঁর মা রাবিয়া বেগমের সঙ্গে ১৯৮৫ সালে আকতার আলী চৌধুরীর বিয়ে হয়েছিল। ছোট থাকতেই তাঁর বাবা মারা যান। এরপর মায়ের কাছ থেকেই তিনি নিজেকে আকতার আলী চৌধুরীর মেয়ে হিসেবে জেনে আসছেন।
তবে ওই বিয়ের কাবিননামা রয়েছে কি না—এ বিষয়ে নিশ্চিত নন রেজিয়া। তিনি জানান, এ বিষয়ে তাঁর জানা তথ্য মূলত মায়ের কাছ থেকেই পাওয়া।
অন্যদিকে, রাবিয়া বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি আপাতত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না।
বিষয়টি নিয়ে আকতার আলী চৌধুরীর পরিবারেরও রয়েছে ভিন্ন বক্তব্য। তাঁর ছেলে মো. আলী আকবর চৌধুরী বলেন, পৌরসভা থেকে পাঠানো নোটিশের মাধ্যমে তাঁরা প্রথম বিষয়টি জানতে পারেন।
আলী আকবরের দাবি, তাঁর বাবার দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়ে পরিবারের সদস্যরা আগে কখনো কিছু জানতেন না। প্রায় চার দশক পর এমন দাবি ওঠায় তাঁরা বিস্মিত।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আকতার আলী চৌধুরীর বাড়ি সুয়াবিল এলাকার বাদশা আলম চৌধুরী বাড়িতে। তবে রাবিয়া বেগম ও রেজিয়া সুলতানা কখনো ওই বাড়িতে বসবাস করেছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি তাঁরা।
নাজিরহাট পৌরসভার সচিব বিপ্লব চন্দ্র মুহুরি অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে শুনানি চলছে। শুনানি শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আইনজীবীরা বলছেন, এমন দাবির সত্যতা যাচাইয়ে বিয়ে-সংক্রান্ত কাবিননামা, জন্মনিবন্ধনসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র গুরুত্বপূর্ণ। কোনো নথির বৈধতা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে পারে।
এ ছাড়া রেজিয়া সুলতানা সত্যিই আকতার আলী চৌধুরীর জৈবিক কন্যা কি না, তা নিয়ে আইনগত বিরোধ তৈরি হলে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাইয়ের সুযোগ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
এ বিষয়ে নাজিরহাট পৌর প্রশাসন ও ফটিকছড়ি উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রহমত উল্যাহ বলেন, অভিযোগগুলো পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। যাচাই শেষে অভিযোগের সত্যতা এবং দাবিগুলো কতটুকু সঠিক, তা বলা যাবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘ সময় পর ওঠা এ ধরনের দাবির ক্ষেত্রে আবেগের চেয়ে নথিপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়ায় সত্যতা যাচাই করাই গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই এবং প্রয়োজন হলে আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই বিষয়টির প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
মন্তব্য (০)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।